ইসরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত। সাধারণ ব্যালট গণনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, আর গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি।
অন্যদিকে, আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯-এ। এখন নজর দ্বৈত খামযুক্ত বিশেষ ব্যালটের দিকে। প্রায় পাঁচ লাখ এমন ব্যালটের মধ্যে ২৯ হাজার ২৫৩টি গণনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। বাকি ভোটের হিসাব প্রকাশের পর দলগুলোর আসনসংখ্যা ও সরকার গঠনের সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বিকেলের মধ্যে দ্বৈত খামযুক্ত ব্যালট গণনা শেষ করার আশা করছে।
দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনথ-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ ডাবল-এনভেলপ ব্যালটের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ২৫৩টি গণনা করা হয়েছে।
এই ব্যালটগুলো সাধারণ ভোটের মতো নয়। নিবন্ধিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেনাসদস্য, কূটনীতিক, পুলিশ কর্মকর্তা এবং বাস্তুচ্যুত নাগরিকেরা।
এই পদ্ধতিতে ভোটারের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ব্যালটটি বাইরের একটি খামে রাখা হয়। নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রথমে বাইরের খামে থাকা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করেন। এরপর মূল ব্যালটপত্রটি আলাদা করে গণনা করা হয়।
এর উদ্দেশ্য হলো একজন ভোটার যাতে একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা এবং ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখা।
বিশেষ এই ব্যালটগুলোর ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সাধারণ ভোটের হিসাবে কোনো প্রধান জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ব্যালট গণনার পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৮। আরব দলগুলো পেতে পারে মোট ১৯টি আসন।
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। ফলে বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য দলগুলোকে অন্য রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন আদায় করতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রাআম সাতটি আসন পেতে পারে। সব মিলিয়ে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ১৯, যা একটি রেকর্ড।
এই আসনগুলো সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন কিংবা তাদের সমর্থন নেওয়া নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
বিশেষ ব্যালট গণনার পর আসনসংখ্যা বদলালে সরকার গঠনের আলোচনাতেও নতুন হিসাব তৈরি হতে পারে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭.৭ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উচ্চ ভোটার উপস্থিতির পাশাপাশি বিশেষ ব্যালট গণনা এখন নির্বাচনের চূড়ান্ত আসনবণ্টন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে দ্বৈত খামযুক্ত ব্যালট গণনা শেষ করার আশা প্রকাশ করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলগুলোর আসনসংখ্যা চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। আনাদোলু